রক্তরোগঃ Graft versus Host Disease (TA-GvHD)

শেয়ার করুন:

রক্ত জীবন বাঁচায়, রক্তেই জীবন যায়।

হ্যাঁ, নিকট আত্নীয় (বাবা, মা, সন্তান, ভাইবোন) এর রক্ত নিলে Transfusion Associated Graft versus Host Disease (TA-GvHD) হলে মৃত্যুর হার শতকরা ৯০ ভাগ। মানে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তবে এই রোগটি যে সবার হবে তা নয় অর্থাৎ বিরল। যেমন সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক রোগ হয় না।

সম্প্রতি নিচের এই ছবিটি অনেক ভাইরাল হয়েছে।

আসলে ব্যাপারটা এমন না যে নিকট আত্মীয়ের রক্ত নিলেই এই রোগ হবে আর মারা যাবেন! নিকট আত্মীয়ের রক্ত নিয়ে এই রোগ হলে শতকরা ৯০ ভাগ মৃত্যু অনিবার্য ধরা যায়। কিন্তু নিকটাত্মীয়ের রক্ত নিয়ে এই রোগ হওয়ার চান্স খুবই নগণ্য। বলা যায় ১% এরও কম।
অর্থাৎ এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ, সহসা হয় না তবে হলে রক্ষা নাই!
নিকট আত্মীয়ের বলতে নিজ বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তান, আপন ভাইয়ের বা বোনের ছেলে-মেয়ে যেমন ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই-বোন (বিশেষত 1st degree relatives) এর মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও স্ত্রীর জন্য রক্তদাতা হিসেবে স্বামী। 

তাই সামান্য রক্তস্বল্পতা হলেই রক্ত না নিই। নিকট আত্নীয়ের রক্তকে না বলি।

রক্তের প্রয়োজন হলে একই ব্লাড গ্রুপের অনাত্মীয়ের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ রক্ত নিই।

আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো নিজ বাবা, মা, ভাই, বোন ও সন্তানের রক্ত না নেয়ার।
নিজেদের রক্ত লাগলে যেমন অন্যের কাছে নিবো, তেমনি অন্যের রক্ত লাগলে নিজেরাও দিবো। তবেই তো রক্তদাতা পাওয়া সহজ হবে।

আপন ভাইয়ের রক্ত নেওয়ার পরে এই রোগীটার Transfusion Associated Graft versus Host Disease (TA-GvHD) হয়েছিল এবং

ইন্নালিল্লাহ…. রাজিউন।

আত্মীয়ের রক্ত যদি ইরেডিয়েট করে নিতে পারেন তাহলে এই রোগ হবার সম্ভাবনা নেই। তবে এই ইরেডিয়েট করার ব্যাপারটা বাংলাদেশে খুব খুব খুব কম হাসপাতালেই হয়!!  (যেমন: স্কয়ার হাসপাতাল)

রোগীর শরীরে আপন মানুষ বা নিকটাত্মীয়ের রক্ত দেওয়া হলে নিকটাত্মীয়ের রক্তের লিম্ফোসাইট রোগীর ত্বক, অস্থিমজ্জা ও রক্তনালীতে আক্রমণ করে। এটি মূলত ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় রোগীর উল্লেখিত অংশে সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল চাকা বা দানা জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। তারপর আস্তে আস্তে জ্বর, পাতলা পায়খানা হয়। এছাড়াও পরবর্তীতে রক্তমিশ্রিত পায়খানা ও তল পেটে তীব্র ব্যাথার সৃষ্টি হয়। যদি রোগী এইরকম সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে তার ০৩ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে রক্তের সব কণিকার সংখ্যা কমতে থাকবে। এইরকম লক্ষণ দেখা দিলে রোগটি যদি শনাক্ত করা না যায় তাহলে ০৩ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটে। সাধারনত Blood Transfusion এর ২ দিন থেকে ৩০ দিন পর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিচে দেয়া লিংকে ক্লিক করে সহজে জেনে নিন এই রোগ হওয়ার কারণ, কীভাবে হয়, কেন হয় পড়ে নিন।

আপন ভাতিজার রক্ত নিয়েছিলেন আক্রান্ত এই রোগী

লিখেছেন
শ্রদ্ধেয় স্যার,
Kamruzzaman Haematologist

ক্লিক গল্পে সহজ পাঠঃ গ্রাফট ভার্সাস হোস্ট ডিজিজ


শেয়ার করুন:

Facebook Comments