Golden Blood বা সোনালি রক্ত

শেয়ার করুন:

ব্লাড ফ্যাক্ট || Rh null
– রক্তবন্ধু

পৃথিবীতে বিরল একটি রক্তের গ্রুপ হলো Rh null বা আরএইচ শূন্য।
যাকে “গোল্ডেন ব্লাড” বা স্বর্ণ রক্ত নামে অভিহিত করা হয়েছে। সর্ব প্রথম ১৯৬১ সালে এক অস্ট্রেলিয়ান মহিলার শরীরে এই রক্ত পাওয়া যায়। আমরা যে রক্তের পজিটিভ বা নেগেটিভ গ্রুপ বলি তা হলো Rh বা রেসাস ফ্যাক্টর এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে। এর ভিত্তিতেই A,B,O গ্রুপের রক্ত পজিটিভ নাকি নেগেটিভ তা নির্ধারণ হয়।

নোটঃ মানুষের শরীরে প্রায় ৬১ রকম Rh (রেসাস) এন্টিজেন থাকে। Rh নেগেটিভ বলতে যদি কারো রক্তে Rh এর অধিকাংশই না থাকে কিংবা কমপক্ষে একটিও Rh antigen থাকে তবে সেটাকে নেগেটিভ ধরা হয়।
যদি কমপক্ষে একটিও Rh (প্রোটিন) এন্টিজেন না থাকে অর্থাৎ একেবারেই কোন আর-এইচ এন্টিজেন না থাকে তখন সেটাকে বলা হয় Rh null. এর মানে সেই রক্তে কোন প্রকারই Rh এর উপস্থিতি একদমই নাই। যাকে আমরা বলতে পারি absolute nill.

Null (নাল) মানে নাই৷ অর্থাৎ এই রক্ত Rh এন্টিজেন নিরপেক্ষ। দীর্ঘ ৫ দশক পরে অর্থাৎ ২০১০ সালে পৃথিবীতে ৪৩ জন মানুষের শরীরে এই রক্ত পাওয়া গিয়েছে। এটাকে Universal গ্রুপও বলা হয়। নেগেটিভ রেয়ার গ্রুপের ডোনার পাওয়া না গেলে এই রক্ত দেয়া যায়। প্রচলিত এ,ও,বি, এবি নেগেটিভ ছাড়াও অনেক “রেয়ার” গ্রুপের রক্ত আছে!

গোল্ডেন রক্তের জীবনীশক্তিও অনেক! দুঃখজনক ব্যপার হলো এই গ্রুপের কারো রক্তের প্রয়োজন হলে সে ঐ Rh null ডোনার ছাড়া কারো কাছে ছাড়া তো রক্ত নিতে পারবে না।
মেডিকেল সাইন্সে এই স্বর্ণ রক্তকে সব চেয়ে দামী রক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমাদের কাছে তো প্রতিটা গ্রুপের রক্তই মহামূল্যবান।
হ্যাপি ব্লাড ডোনেটিং।

মানুষের রক্ত দেখতে লাল বর্ণের হলেও এর গঠনগত পার্থক্য আসলে রক্তে থাকা ৩৪২টি এন্টিজেনে। এদের মধ্যে ১৬০টি এন্টিজেন সবার রক্তেই বিদ্যমান। এদের মধ্যে কোন একটি এন্টিজেন যা শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের শরীরে থাকে, তা না থাকলে সেটাকে “দুর্লভ” গ্রুপের রক্ত হিসেবে ধরা হয়। আর শতকরা ৯৯.৯৯ জনের শরীরে উপস্থিত থাকে এমন এন্টিজেন কারো রক্তে অনুপস্থিত থাকলে সেই রক্তের গ্রুপকে ❝খুবই দুর্লভ❞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
Rh Null বা গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ
উল্লেখিত ৩৪২টি এন্টিজেন থাকে ৩৫টি ব্লাড গ্রুপের সিস্টেমে। এই সিস্টেম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হল Rh গ্রুপ। এই Rh গ্রুপেই থাকে ৬১টি এন্টিজেন। এই ৬১টি এর কোন একটি এন্টিজেন রক্তে অনুপস্থিত থাকা স্বাভাবিক। যদি এমন হয় এই ৬১ এর একটিও যদি কারো রক্তে উপস্থিত না থাকে? অর্থাৎ সব গুলোই অনুপস্থিত! এটাই সেই ব্যতিক্রমী Rh Null ❝গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ❞। গত শতকের মাঝামাঝিও চিকিৎসকরা মনে করতেন পৃথিবীতে এমন কারো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। এরা মাতৃগর্ভেই মারা যায় বলে ধারণা করা হতো। ১৯৬১ সালে সে ধারণা ভেঙ্গে যায়!

পড়ুনঃ ★১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হলো তরুণীর সোনালি রক্ত

★★সোনালি হাতের মানব এর রক্তদানের গল্প

শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় রক্তদাতাগণ রেজিস্ট্রেশন করবেন।


শেয়ার করুন:

Facebook Comments