দুই বন্ধুর রক্তদান

শেয়ার করুন:

আমি রক্ত দিবো সেটা রক্তবন্ধু গ্রুপে পোস্ট করে আগেই বলেছিলাম। কারো লাগলে রোগীর সন্ধান চেয়েছিলাম।
রোগী ম্যানেজও হয়ে যায় এবং পরীক্ষা শেষ করে তারপর রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। উল্লেখ্য, আমার সম্মান চতুর্থ বর্ষের (ফাইনাল ইয়ার) এর পরীক্ষা চলমান।
যখন সকালে পরীক্ষা দিতে যাই তখন আনিসুর ভাইয়ের দেখা। উনারও পরীক্ষা, আমরা ব্যাচমেট। উনি পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলেন ❝ভাই, আজ রক্ত দিতে চাই, সাথে থাকবেন নাকি?

রক্তবন্ধুর আরেক প্রতিনিধি সাইদুল ভাইয়ের সেলফিতে রক্তিম পঞ্চগড় এর দুই স্বেচ্ছাসেবী রাজুআলমগীর ভাই। আমার সাথে রক্তদান করছেন পঞ্চগড়বাসী সংগঠনের আনিছুর ভাই।

তখন তো আমি অবাক হয়ে বলি আজকে তো আমিও রক্ত দিবো!

ঠিক আছে। তাহলে দুজনে পরীক্ষা শেষ করে একসাথে হাসপাতালে যাবো।
উনার রোগীও হাসপাতালেই ছিলো।
পরে যখন হাসপাতাল যাই তখন শুনি উনার রোগীর জন্য আগেই আরেকজন ডোনার রক্ত দিয়ে গেছে।
তখন আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আজ একসাথে রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা পূরণ হবে না হয়তো।
তাৎক্ষণিক মাথায় বুদ্ধি আসে হাসপাতালে তো আরো রোগী আছে। যেই ভাবা সেই কাজ। তাৎক্ষণিক রোগীও পাওয়া গেলো, মীরগড় এলাকার একই পরিবারের ২ জন থ্যালাসেমিয়া বাচ্চার রক্ত লাগবে। বন্ধুবর ভাই আনিসুরও রাজি।
তারপর একসাথে দুই ভাই-বন্ধু মিলে সুষ্ঠুভাবে রক্তদান সম্পন্ন করলাম।

রক্ত দেওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিলো, এবং ভ্যাকসিন নেওয়ারও নির্দিষ্ট বিরতি শেষ।
তাই ভেবেছিলাম রক্তটা দিয়ে দিই। আবার করোনা যেভাবে নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আসছে, না জানি কখন কোন বুষ্টার টিকা আবার নিতে হয়!

আমার রোগী ছিলো রক্তশূন্যতার।
আনিছুর ভাইয়ের রোগী থ্যালাসেমিয়ার৷ তবে আজকে রক্তটা টানানো হলো, আগামীকাল(১৬ জানুয়ারি) সুবিধা মতো সময়ে দেয়া হবে।

এটা ছিলো আমার B+ve ১৩ তম রক্তদান। আর আনিছুর (দুরন্ত মুসাফির) এর ১৬ তম A+ve রক্তদান।

Rabbi Emon
প্রতিনিধি, রক্তবন্ধু পঞ্চগড়
১৫ জানুয়ারি, ২০২২

 


শেয়ার করুন:

Facebook Comments