রক্ত গ্রহীতা যখন রক্তদাতা
Author: রক্তবন্ধু | 11 Nov 2025
১০ নভেম্বর, ২০২৫। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর।
সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে Ayesha Anis বাসা থেকে বের হলেন। হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগল প্রায় দেড় ঘণ্টা— ১০টা ২০ মিনিট। দূরত্ব ছিল লম্বা, পথ ছিল ক্লান্তিকর, কিন্তু তার গন্তব্য স্থির।
১০টা ৩৫ মিনিটে, রক্তের ব্যাগে লাল জীবন ভরে উঠতে শুরু করল। আজ তিনি দান করছেন O Positive রক্ত।
এটি তার ১৩ তম রক্তদান।
রক্ত প্রবাহিত হতে থাকতে আয়েশা চোখ বন্ধ করে স্মরণ করলেন এক অনুভূতির কথা—
“আমি রক্ত দিই, কারণ কেউ একদিন আমার জন্যও দিয়েছিল।”
তার পরিবার তাকে খুব ভালোবাসে।
তারা চায় না সে রক্ত দিক— তাদের ভয়, আয়েশা হয়তো দুর্বল হয়ে পড়বে, অসুস্থ হয়ে যাবে।
কিন্তু ভালোবাসার ভেতর অজানা ভয় থাকলেও আয়েশার ভেতর আছে অভিজ্ঞতার শক্তি।
কীভাবে সে বোঝাবে—
সেই রাতের কথা, যখন তার হিমোগ্লোবিন নেমে গিয়েছিল মাত্র ৬-এ এবং তিন জন অচেনা মানুষ রক্ত দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিল!
কীভাবে বোঝাবে—
সেই দরিদ্র মায়ের কথা, যার ছোট্ট মেয়েটি অপারেশন থিয়েটারে ছিল, এক ব্যাগ রক্ত পেয়ে যিনি আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘক্ষণ কেঁদেছিলেন?
কীভাবে বোঝাবে—
সেই নবজাতকের ছোট্ট আঙুলের মুঠো,
যে জন্মের কয়েক মিনিট পর তার আঙুলটি শক্ত করে ধরে ছিল?
এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
এগুলো শুধু হৃদয়ে বহন করা যায়।
আয়েশা জানে না সে কতদিন বাঁচবে।
কিন্তু সে জানে—
যতদিন থাকবে শ্বাস,
ততদিন সে যুদ্ধ করে যাবে একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে—
“এক ব্যাগ রক্তের অভাবে আর কোনো জীবন যেন না ঝরে যায়।”
সে গর্বের সাথে বলে—
“আমি আয়েশা আনিছ। একজন সাধারণ মেয়ে।
কিন্তু আমার রক্ত আজ ১৩ জন মানুষের শরীরে প্রবাহিত। এটাই আমার অর্জন, এটাই আমার পরিচয়।”
এস এম সাব্বির আলম,
এডমিন, রক্তবন্ধু চট্টগ্রাম।

অন্যান্য পোস্ট সমূহ
একজন রক্তদাতাকে আরেকজন রক্তদাতার রক্তদান
Author: রক্তবন্ধু | 21 Jul 2026
ঢাকায় এ পজিটিভ লাগলেই আমি সবার আগে Pearl Matthew কে কল দেই- সময় হয়ে গেলে সে কখনো না করে না। সেই পার্ল যখন হঠাৎ...
আমার ২১ তম রক্তদান
Author: রক্তবন্ধু | 14 Jul 2026
রোগীর নাম সুজন, পেশায় একজন ভ্যানচালক। থ্যালাসেমিয়া রোগে ছোট থেকেই ভুগতেছে। আমি একজন ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত রক্তদান করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি রক্তিম পঞ্চগড় এর...
কারো বেঁচে থাকার মিছিলে আমি আছি
Author: রক্তবন্ধু | 27 Mar 2026
চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল আর স্বজন হারানোর আহাজারি—সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মনটা এক অজানা বিষাদে ভরে ওঠে। খুব অসহায় বোধ করি, মনে মনে ভীষণ আফসোস...
Facebook Comments