রক্তদানের ছবি দেখে রক্তদানে অনুপ্রাণিত

শেয়ার করুন:

আমি রাশেদুল হক। রক্তের গ্রুপ A+ve
বাড়ি সৈয়দপুর, নীলফামারী। চাকুরিসূত্রে চকবাজার, চট্টগ্রামে থাকি৷
এটা আমার তৃতীয় রক্তদান, দীর্ঘ বছর পর। ২য় রক্তদানের সময় অনেক মাথাঘুরাইছিলো! অনেক ভয়ও পেয়েছিলাম! এরপর আর কোনদিন রক্তদানের সাহস এবং ইচ্ছা হয় নাই। কারো রক্ত লাগলে রক্তবন্ধু ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক গ্রুপ সাজেস্ট করি। রক্তের পোস্ট দেখলে বন্ধু তাসনিমুল বারী নবীনকে নক দিতাম। লজ্জাও লাগতো, নিজেই দেই না (সাহস পাইনা)! রক্তবন্ধু গ্রুপে জয়েন হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত রক্তদানের ছবি দেখি, রক্তদানের গল্প পড়ে আসছি। মনের মধ্যে একটু একটু করে সাড়া দেয়, রক্তদানের ইচ্ছা জাগা শুরু করে।

এরই মধ্যে একদিন আমার প্রাণপ্রিয় বাবার বারডেম হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হয়েছিলো। ডাক্তার ৬ ব্যাগ রক্তের রিকুইজিশন দিয়েছিলো। (পরে ৫ ব্যাগেই হয়েছিলো)

রক্তবন্ধু থেকে যথেষ্ট সাপোর্ট পেয়েছিলাম। বাবাকে অন্য মানুষ রক্ত দিলো। মনের মধ্যেও একটা দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নিই আমিও রক্তদান করবো। রক্তবন্ধু ওয়েবসাইটেও রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি।
মনের মধ্যে সাহস যোগাতে থাকি। আমি পারবো। আমি রক্তদান করতে পারবো।

মনের ভেতরে ইচ্ছাটা নাড়াচাড়া দেয়। ব্যস্ততায় আর সুযোগের অভাবে রক্তদান করাটা ঠিক হয়ে উঠছিলো না।

অবশেষে আজ ১০ জানুয়ারি, ২০২২ রক্তশূন্যতার এক রোগীকে সাহস করে রক্তদান করে ফেললাম। নাহ! আজ কিছুই মনে হয় নাই। নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব হচ্ছে। রোগী ও রোগীর লোক কল, এস.এম.এস করে কৃতজ্ঞতাও জানাচ্ছে, খোঁজ নিচ্ছে। দোয়া করতেছে। ব্যাপারটা বেশ ভালোই লাগছে, অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ পাচ্ছি। যদিও খোঁজ না নিলেও কিছু মনে করতাম না। রক্তদান করতে পেরেছি এতেই তো আমার খুব খুশিখুশি লাগতেছে!

একটা কথা বলবো, কে কি বলে বলুক, বেশি বেশি, প্রতিবারই রক্তদানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করুন। ছবি দেখে দেখেই আমি সাহস, ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। হয়তো আমার মতো এরকম অনেকে এগিয়ে আসবে।
ধন্যবাদ রক্তবন্ধু!


শেয়ার করুন:

Facebook Comments