নিশ্চিত হয়ে রক্তদাতাকে ডাকুন!

শেয়ার করুন:

গতকাল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রক্তবন্ধু পলক ভাই ম্যাসেঞ্জারে ইনবক্সে নক করে জানালেন ‘ইরফান ভাই, আমার রক্তদানের চার মাস হয়ে গেছে। ফুলবাড়ী অথবা দিনাজপুরের মধ্যে কারো এবি পজেটিভ ব্লাড লাগলে আমাকে জানাবেন।’
আমি আচ্ছা বলে উত্তর দিলাম।

কোনো এক রোগীর লোক সকালবেলা পলক ভাইকে কল করে বলে যে রক্তশূন্যতায় একজন বয়স্ক রোগীর জন্য ১ ব্যাগ AB+ve রক্তের প্রয়োজন দিনাজপুর এম.এ রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।

রোগীর লোকের কনফার্মেশন পেয়ে ফুলবাড়ি থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি।

৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যখন দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে এসে পৌঁছালেন তখন রোগীর লোক বললো যে ব্লাড লাগবে না!

এইটা কোনো কথা! রোগীর লোক নিজেরা কনফার্ম না হয়ে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করেই রক্তদাতা খোঁজে কীভাবে!

তখন আবার আমার সাথে যোগাযোগ করে জানালেন ‘রক্তশূন্যতার যে রোগীর জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে রক্ত দিতে এসেছিলাম এখানে এসে রোগীর লোক এখন বলতেছে যে ব্লাড লাগবে না। অথচ তারা দুইবার করে আমাকে নিশ্চিত করেছে বলেই রওনা দিয়েছিলাম। আমি এখন দিনাজপুরে আছি । আধাঘন্টা অপেক্ষা করি। দেখেন দিনাজপুরে কারো এবি পজেটিভ লাগবে কিনা। লাগলে দিয়েই যাই। ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কষ্ট করে যেহেতু এসেই পরলাম’

অবশেষে রক্তবন্ধু ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট করলাম ৩০ মিনিটের মধ্যে দিনাজপুরে কারো এবি পজেটিভ ব্লাড লাগলে দ্রুত জানানোর জন্য। নবীন ভাই দিনাজপুরের দারুস সালাম নামে একজন ভাই কে ম্যানশন করেন । পরে উনি আমাকে কল করে বলেন এক গর্ভবতী মায়ের সিজারের জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে ১০ ব্যাগ এবি পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন!

১০ ব্যাগ রক্তের এর কথা শুনে তো আমি পুরাই থ হয়ে গেলাম।
পরে রোগীর লোকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম
গর্ভবতী মায়ের নাড়ি পেঁচিয়ে গেছে, ৫ ব্যাগ ব্লাড জমা না দেওয়া পর্যন্ত ডাক্তার কিছুতেই সিজার করবে না!

রোগীর লোককে পলক ভাইয়ের নাম্বার দিয়ে দিলাম আর পলকও ভাই তার ১০ম রক্তদান সম্পন্ন করলেন ।

হ্যাপি ব্লাড ডোনেটিং।

অহেতুক ডোনার হ্যারেজমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
আর গর্ভবতী মায়ের জন্য আগে থেকেই কমপক্ষে দুজন রক্তদাতা প্রস্তুত করে রাখুন।

ইরফান পাঠান
চিফ অব এডমিন
রক্তবন্ধু
১৩ ডিসেম্বর, ২০২১


শেয়ার করুন:

Facebook Comments