কারো বেঁচে থাকার মিছিলে আমি আছি

শেয়ার করুন:

চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল আর স্বজন হারানোর আহাজারি—সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মনটা এক অজানা বিষাদে ভরে ওঠে। খুব অসহায় বোধ করি, মনে মনে ভীষণ আফসোস হয়। কিন্তু কেবল দীর্ঘশ্বাস না ফেলে সব সময় চাই যদি অন্তত একটি প্রাণ বাঁচানোর উছিলা হতে পারি!

গতকাল (২৬ মার্চ, ২০২৬) একজন ২২ বছর বয়সী ক্যান্সারে আক্রান্ত আপুকে প্লাটিলেট দিয়েছি। আর এর মাধ্যমেই পূর্ণ হলো আমার রক্তদানের ২৫তম মাইলফলক।

এক ব্যাগ প্লাটিলেট দেওয়াতে,
রোগীর পরিবারের লোকজন—
মাথায় হাত রেখে বললো,
❝চিরঞ্জীবী হও বাবা।❞

এতো তুচ্ছ একটা কাজে
মানুষের হৃদয় দখল করা যায়।
মানুষ মন খুলে দোয়া করে।
অথচ —
Azmi ‘র পুরো জীবন উৎসর্গ করেও এই প্রাপ্তিটা পাওয়া যাবে না।

যখন ভাবী, আমার শরীরের কয়েক ফোঁটা রক্তকণিকা অসুস্থ মানুষের শিরায় নতুন করে বাঁচার স্পন্দন জাগাচ্ছে, তখন বুকটা এক অসীম প্রশান্তিতে ভরে যায়।

মরণব্যাধির সাথে লড়াই করা সেই মলিন মুখটার দিকে তাকিয়ে বারবার মনে হয়েছে—আমরা হয়তো মাইলস্টোনের বিমান দুর্ঘটনা, সদরঘাটের লঞ্চে পিষ্ট হওয়া, পদ্মার ফেরিতে ডুবে যাওয়া বাস ভর্তি মানুষের মৃত্যু আটকাতে পারবো না, কিন্তু কারো একজনের জীবন বাঁচাতে উছিলা হতে পারি।

roktobondhu || রক্তবন্ধু

আর্তনাদের এই মিছিলে আমি কেবল দর্শক হয়ে থাকতে চাইনা—১০ বছর ভলেন্টিয়ারিং জীবনের এই পথচলায় বড় প্রাপ্তি একটাই—কারো বেঁচে থাকার মিছিলে আমি আছি, আমরা আছি। এজন্য মহান রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করি— আলহামদুলিল্লাহ। দোয়া চাই, আল্লাহ যেন সব সময় সুস্থ রাখেন।

❝আমরা রক্তবন্ধু, রক্তের সম্পর্ক গড়ি ❞
রক্তবন্ধু || roktobondhu.com

Sami Ullah Azmi
রক্তবন্ধু, সিরাজগঞ্জ।


শেয়ার করুন:

Facebook Comments