আমার ২১ তম রক্তদান

শেয়ার করুন:

রোগীর নাম সুজন, পেশায় একজন ভ্যানচালক।
থ্যালাসেমিয়া রোগে ছোট থেকেই ভুগতেছে।

আমি একজন ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত রক্তদান করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি রক্তিম পঞ্চগড় এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি, টানা চার বছর ধরে।

সুজনকে আমিও নিয়মিত ডোনার ম্যানেজ করে দিতাম এবং নিজেও দিতাম মাঝেমধ্যে।

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুরে আমার দোকান।
গতকাল রাতে সুজনের বাবা আমার দোকানে এসেছিল বললেন যে “সুজনের অবস্থা খুবই খারাপ কিছুই খাইতে পারতেছে না, অনেক দুর্বল হয়ে গেছে মুখের ভিতরে ঘা হয়েছে,
ব্লাড টা এমারজেন্সি দিতে হবে”

আমিও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে আবেদনটি জানালাম, পাশাপাশি খুঁজতে লাগলাম।

তার বাবা আজকে সকাল থেকে দুই- তিনবার আমার দোকানে এসে বলছেন যে সুজনের অবস্থা খুবই খারাপ,

উনার বাবার দিকে তাকিয়ে আমি দোকান বন্ধ করে সুজনকে নিয়ে তেঁতুলিয়া চলে গেলাম ব্লাড দিতে।

roktobondhu || রক্তবন্ধু

একজন সুস্থ মানুষের শরীরের হিমোগ্লোবিন থাকে গড়ে ১২ গ্রা/ডেলি.

সুজনের টেস্ট করার পর দেখা গেল মাত্র ৩.৫০!

দেরি না করে দ্রুত ব্লাড টা টেনে দেওয়া হল তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আমিও আমার ২১তম এবি পজেটিভ রক্ত উপহার দিলাম।

মরহুম ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় তাঁকে উৎসর্গ করে আমার আজকের এই রক্তদান। মহান আল্লাহপাক তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।

মো. নাঈম ইসলাম।
ভজনপুর, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।

১৪ জুলাই, ২০২৬ ঈসায়ী।

[Note: এবি পজিটিভ হলো পজিটিভ গ্রুপ গুলোর মধ্যে রেয়ার ব্লাড গ্রুপ]


শেয়ার করুন:

Facebook Comments