রক্তবন্ধু কিরণ

শেয়ার করুন:

আজকের এই ফিচার রক্তদাতাকে নিয়ে রক্তবন্ধু ব্লগে আলাদাভাবে কিছু লিখবো না। শুধু তাকে নিয়ে রক্তবন্ধু গ্রুপে করা চিফ এডমিন ইরফান এর দুইটা পোস্টই তুলে ধরবো। ইরফানের হাত ধরেই রক্তদান যার শুরু। প্রথমবার রোগী খুঁজে দেন রক্তবন্ধুর আরেক এডমিন জীবন চৌধুরী। ঐ রোগীকেই কিরণ দুইবার রক্তদান করে, দুইবার তার দুলাভাইকে দিয়েও রক্তদান করায়।
মো. কিরণ খান, প্রথম রক্তদান করেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে।

১৬ এপ্রিল ২০২০:
করোনা আতঙ্কে পুরো বিশ্ব যখন
চুপসে আছে ভয়ে,
কতেক নির্ভীক তখনও ছুটছে
মানবতার দীপ্ত জয়ে

ছবিতে যাকে দেখছেন সে মো. কিরণ খান। পরিচয় হয়েছে ৪ মাস আগে অনলাইন জগতে। কিন্তু সম্পর্কটা খুব গভীর! কথা হয় প্রায় প্রতিদিন। ৪ মাস আগে ১ম রক্তদান করবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করছিলো।
২০১৯ এর ডিসেম্বর মাসে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রক্তদান করার পর অনুভূতি জানায় যে বেঁচে থাকলে প্রতি ৪ মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করবে।

করোনাকালেই কিরণের দ্বিতীয় বারের মতো রক্তদান। লোকেশনঃ টাঙ্গাইল সদর

আর আজকে ৪ মাস পূরণ হতেই কিডনি ডায়ালাইসিস এর রোগীকে ২য় বারের মত বি পজিটিভ লাল ভালোবাসা দান করলো ছোট ভাই। স্থানঃ টাঙ্গাইল সদর

২৭ ডিসেম্বর ২০২১:
রক্তদানের সময়ই হয়ে গেলে হয় আমাকে নক করে বলবে যে, ❝ভাই রক্তদানের সময় হয়ে গেছে।রোগীর খোঁজ করে দেন।❞
অথবা রক্তবন্ধু গ্রুপে ঢুকে দেখবে যে কোথায় কার বি পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন পরেছে। নিজেই রোগীর লোকের সাথে কথা বলে কনফার্ম করে ব্লাড ডোনেট করে আসে।

ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। রক্তবন্ধু গ্রুপে বি পজেটিভ রক্তের রিকোয়েস্ট আসলে সে নিজেই রোগীর লোককে কল করে বলে যে সে রক্তদানে আগ্রহী।
এবং নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে আজকে ষষ্ঠবারের মতো B+ve রক্তদান করে আসলো একজন লিভারের সমস্যাজনিত এক রোগীকে।


স্থানঃ শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল

বলছিলাম ছোট ভাই কিরণ এর কথা। লেখাপড়ার পাশাপাশি বর্তমানে টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় ডায়িং সেকশনে আছে। রক্তবন্ধু গ্রুপে রোগীর মেয়ের কমেন্ট এর একটি স্ক্রিনশট ফুটনোটে স্মৃতি হিসেবে রাখলাম। কিডনি ডায়ালাইসিসের এই রোগীই ছিলেন তার প্রথম এবং দ্বিতীয় রক্তগ্রহীতা। তাহমিনা আঁখির মাকে দুইবার রক্তদানের সুযোগ পেয়েছিলো রক্তবন্ধু কিরণ


শেয়ার করুন:

Facebook Comments