রক্তদানের অভূতপূর্ব গল্প!
Author: রক্তবন্ধু | 11 Dec 2021
৯ দিন বয়সের বাচ্চাকে রক্তবন্ধু রিপনের প্লাটিলেট উপহার
রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আনিসুর রহমান একজন বি নেগেটিভ ডোনার নিয়ে সাভারের এনাম মেডিকেলে গিয়েছিলেন। আগেরদিনও বি নেগেটিভ ডোনার দিয়েছিলেন একই রোগীকে। রাস্তায় ধাক্কা খেয়ে বাচ্চা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। রোগীর স্বামী এর আগে দালালের কাছে ব্লাড কিনেছিলো, প্রতারিতও হয়েছিলো। তাই রক্তবন্ধুর ভলান্টিয়ার বি নেগেটিভিয়ান আনিসুর নিজে সাথে গিয়েছিলেন।
সাথে সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভারের আরেক স্বেচ্ছাসেবী রক্তবন্ধু এস আর রিপন।
তারা যখন হাসপাতালে, লক্ষ করলেন সমানে ও পজিটিভ গ্রুপের ডোনার রিজেক্ট হয়ে ফিরে যাচ্ছে। শুনলেন ১৬ জন ডোনার রিজেক্ট! কারো ভেইন চিকন, কারো ওজন কম। কারো বা প্লাটিলেট কাউন্ট অনেক কম। এরই মধ্য সাভারের পরিচিতি আরেক রক্তবন্ধু রক্তদাতা রুমানের দেখা হয় তাদের। তার প্লাটিলেট দেয়ার কথা। রিপনের রক্তের গ্রুপও ও পজিটিভ। তাই ব্যাকআপ হিসেবে কি মনে করে রিপনও CBC টেস্ট করতে ব্লাড স্যাম্পল দিয়ে চলে আসেন। পরে জানা যায় রুমানও নাকি প্লাটিলেট দিতে গিয়ে রিজেক্ট হয়েছেন। তারও CBC রিপোর্ট সুবিধাজনক নয়। রুমানের প্লাটিলেট কাউন্ট কম হওয়ায় দিতে পারলেন না।
রিপন এর CBC টেস্ট রিপোর্ট অনেক ভালো পাওয়া গেল। রোগীর লোক এর ফোন পেয়ে আবার বাসা থেকে রিক্সাযোগে হাসপাতালে ফিরে গেলেন দুই রক্তবন্ধু।
ধামরাইয়ের রোগী বাচ্চাটার বাবা সৌদি প্রবাসী। ৯ দিনের বাচ্চা। ৯ দিন থেকেই N.I.C.U তে। এরই মধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এদিকে প্লাটিলেট ডোনার পাওয়া যাচ্ছিলো না। পাগলের মতো ডোনার খোঁজ করে যাচ্ছিলেন; যতো টাকাই লাগুক, যেখান থেকেই ডোনার আনতে হয় হউক!
রিপন মাত্র দুইমাস আগে (whole blood) রক্তদান করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী হোল ব্লাড দেয়ার ৪ মাস বা ১২০ দিন না হলে প্লাটিলেটও দিতে পারবেন না। আশ্চর্যজনক ভাবে CBC-তে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেল তার প্লাটিলেট কাউন্ট অনেক ভালো। ৩ লক্ষ ২২ হাজার। যেখানে স্বাভাবিক কাউন্ট ১.৫০-৪.৫০ লক্ষ। হিমোগ্লোবিনও যথেষ্ট ভালো (১৪ গ্রাম/ডেসিলিটার)। যেখানে স্বাভাবিক মাত্রাই ১৩.৫০ গ্রা/ডেসি.লি।
তাই ডাক্তারও নির্দ্বিধায়, নিশ্চিন্তে ডোনারকে গ্রহণ করলেন।
অবশেষে ১১ডিসেম্বর/২১ রাত্রি দুইটার দিকে রিপনের ৪র্থ প্লাটিলেট দান সম্পন্ন হলো। উল্লেখ্য, তিনি এর আগে ১৭ বার হোল ব্যাগ ব্লাড প্রদান করেছিলেন।
কর্মসূত্রে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার আনিসুর রহমান ও কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের রিপন সাভারে থাকেন।
টাকাই সব সমস্যার সমাধান নয়।
রক্ত কিংবা প্লাটিলেট টাকা দিয়ে তৈরি করা যায় না, পরীক্ষারেও কৃত্রিমভাবে তৈরি হয় না। বিজ্ঞান এখনো এর বিকল্প আবিষ্কার করতে পারে নাই।
আসুন, স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসি।
মানুষ মানুষের জন্য।
আমরা রক্তবন্ধু, রক্তের সম্পর্ক গড়ি।

অন্যান্য পোস্ট সমূহ
রক্ত গ্রহীতা যখন রক্তদাতা
Author: রক্তবন্ধু | 11 Nov 2025
১০ নভেম্বর, ২০২৫। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে Ayesha Anis বাসা থেকে বের হলেন। হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগল প্রায়...
জীবন থেকে পাওয়া
Author: রক্তবন্ধু | 27 Oct 2025
জীবন থেকে পাওয়া এক অনুপ্রেরণার গল্প... আমার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম আজ সে দ্বিতীয়বারের মতো “A Negative” রক্তদান সম্পন্ন করেছে। এটা শুধু একটি রক্তদান...
মেহেদির ১০৬ ও রক্তবন্ধু
Author: রক্তবন্ধু | 13 Oct 2025
১০৬ বারের রক্তদানের ভেতরে রক্তবন্ধু থেকে প্রথম ফোনের মাধ্যমে প্লাটিলেট দান। ২০২০ এর দিকে রক্তবন্ধু ওয়েবসাইটে আমি রেজিস্ট্রেশন করি। https://roktobondhu.com আমার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। দীর্ঘ...
Facebook Comments