বিজয় দিবসের আহ্বান

শেয়ার করুন:

মহান বিজয় দিবসে নতুনদের প্রতি আহবান

হে নবীন,
তোমরা যারা দুর্বার বয়সীমা আঠারোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কিংবা সবেমাত্র আঠারো পেরুলে, তোমাদের আহ্বান জানাই, তোমার বলিষ্ঠ কন্ঠে মানবতার গান বেজে উঠুক এটাই সকলের প্রত্যাশা।
মানব সেবায় নিজেকে যুক্ত করো, অন্যের প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবনটাকে সঁপে দাও বীরের বেশে।

হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মুমূর্ষু রোগীর আর্তনাদ শুধু একটাই আমাদের প্রাণে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন, আমরা বাঁচতে চাই।

সবেমাত্র ভুমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকটি কল্পনার সুরে আহবান করছে, হে নবীন আঠারোর ছুঁইছুঁই বা আঠারো পেরোনোর দল,
আমি জন্মগ্রহণ করলাম পৃথিবীতে। আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে আমার জন্মদাতা মা মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। প্লিজ তোমরা আমার মায়ের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসো! আমার মা কে বাঁচাও_______
আমার মা যদি না বাঁচে তাহলে আমি কিভাবে বড় হবো?
আমিও তো তোমাদের মতো আঠারোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেই নিয়মিত রক্তদান করবো। দয়াকরে আমার মা কে বাঁচাতে এগিয়ে এসো।

হে প্রিয়!!
হাসপাতালের বেডে জীবন সন্ধিক্ষণে মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে মুমূর্ষু রোগীটি অবাক নয়নে চেয়ে আছে তোমাদের দিকে। তোমাদের রক্তে প্রাণে বাঁচতে চায়।

রক্তদানে কোন অযুহাত নয়!
রক্তদানে আহবান করলেই অনেকে বলে মা বাবার অনুমতি ছাড়া দিতে পারবে না।
আচ্ছা!!!?
মা বাবার অনুমিত ছাড়াই তো কত পিকনিক, শিক্ষা সফর, বন্ধু আড্ডা, ক্লাস পার্টি, জন্মদিন পালন, সিনেমাহল ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করছো! সেগুলোর সময় তো অনুমতি লাগেনা। তাহলে রক্তদানে অযুহাত কেন?

সাধারণত মায়েরা চায়না, তার প্রিয় সন্তানটি রক্তদান করুক। তবে মায়েদের সন্তান ভালাবাসায় সন্মান রেখে তোমাদের একটি কথাই বলবো, যখন তোমার বা আমাদের পরিবারে কারোর জন্য রক্তের প্রয়োজন পড়বে সেদিন যে রক্তদাতা রক্তদান করতে আসবে, সেও তো তোমার আমার মায়ের মতো কোন এক মায়ের সন্তান।

হে বন্ধু!
এসো আমরা আমাদের মানসিকতাকে পরিবর্তন করি, নিজেকে তৈরি করি রক্তদাতা হিসেবে। সময় হলেই রক্তদানে এগিয়ে আসি। পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, রক্তদানে কোন ক্ষতি হয়না বরং লাভ হয়।
তাইতো তোমাদের আঠারোতম জন্মদিন পালন করো এক ব্যাগ রক্তদানের মাধ্যমে।

রক্তবন্ধু বিপুল রায়
দিনাজপুর


শেয়ার করুন:

Facebook Comments