প্রথমবার রক্তদানের অভিজ্ঞতা

শেয়ার করুন:

প্রথমবার রক্তদানের অভিজ্ঞতা

রক্তবন্ধু কে চিনি অনেকদিন আগে থেকেই। মজার ব্যাপার হলো নবীন চাচ্চু রক্তবন্ধুর সাথে রিলেটেড তা প্রথমে জানতাম না। মনে অনেক ইচ্ছা ছিল রক্ত দান করবো। কিন্তু সেভাবে কখনো সুযোগ হয়ে উঠেনি। হয়তো আমি বাড়ির বাইরে (অন্য জেলায়) থাকি তখন রক্তের প্রয়োজন হয় নয়তো অন্য কোন সমস্যা। এভাবে করেই বছরের পর বছর যায় আমার রক্ত দেয়া হয়না। মনেও একটা ভয় ভয় কাজ করে। কারণ ভয়ের কারণে আমি ইঞ্জেকশন নিতে চাইতাম না। করোনার টিকা দিতে গিয়ে সে কি কাণ্ড বাঁধিয়েছিলাম তা আর না বলি।

এবার রক্ত দিবো বলে নবীন চাচ্চুকে (রক্তবন্ধুর ফাউন্ডার) বলে রেখেছিলাম, কোন রোগী পেলে আমাকে জানাতে। উনি জানালেন। ২০ নভেম্বর ২০২৩ সন্ধ্যায় রক্ত দিতে হবে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে।

আমার ঐ সময় অনলাইন ক্লাস ছিল। ক্লাস মিস করে বাসায় তেমন ভাবে না জানিয়ে মনে সাহস যোগানোর জন্য বন্ধু জিল্লুর রহমান ও বন্ধু আবু বক্কর সিদ্দিক কে সাথে নিয়ে চলে গেলাম সদর হাসপাতালে। সেখানে রক্তবন্ধু আলমগীর হোসেন ভাই যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন।

সহযোগিতা করছেন রক্তবন্ধু আলমগীর, রক্তিম পঞ্চগড়

তারপর আমার জন্য ঐ ভয়ানক সময় আসলো। কিন্তু রক্ত দেওয়া হয়ে গেলেও সেভাবে কিছু বুঝতেই পারলাম না। আসলে এতদিন মনে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। রক্ত দেওয়াতে ভয়ের কিছুই নেই। অমূলক সংশয় ছিল মনে। রক্ত নেওয়া শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর উঠলাম ও হাঁটাহাঁটি করলাম। কিছুই টের পেলামনা। এমন কি আজ চার দিন হয়ে গেলেও আমি বুঝিইনি যে আমি রক্ত দিয়েছি।

হয়তো যারা নিয়মিত রক্ত দান করেন তাদের কাছে আমার এই লেখাটা হাস্যকর মনে হবে। কিন্তু যারা একেবারেই নতুন অর্থাৎ একবারও রক্ত দেননি তারা এখান থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন।

ইনশাআল্লাহ, আমি এখন থেকে নিয়মিত রক্ত দান করবো।
রক্তবন্ধু ❤️

পুনশ্চঃ ২০২১ সালে যখন আমার ভাগ্নী জন্মগ্রহণ করে তখন আমার বোনের জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল। রক্তবন্ধু তাসনিমুল বারী নবীন চাচ্চুকে কল করলে উনি দ্রুত ২ জন ডোনার রেডি করে দিয়েছিলেন।

ঐদিন আমরা কতটা মরিয়া হয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। যদিও পরে রক্তের প্রয়োজন হয়নি। তবে নিজের পরিবার বিপদে না পড়লে হয়তো এর গুরুত্ব বুঝতে পারতাম না।

আলহামদুলিল্লাহ্ জীবনে প্রথমবার রক্তবন্ধুর মাধ্যমে রক্তদান করেছি। এই বিষয়টা নিয়ে মনে অনেক ভয়ভীতি কাজ করতো। যা বুঝতে পারলাম, এসব ভয়ভীতি মূলত কিছুই না।

আমাদের সুস্থ সবল সকলেরই রক্তদান করা উচিৎ। আপনার শরীরের অতিরিক্ত রক্তে আরেকজনের অনেক বেশি উপকার হতে পারে।

রক্তদাতার সাথে ২ বন্ধু

আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু জিল্লুর ও বন্ধু আবু বক্করকে। আমার প্রথম রক্তদানে আমার সাথে থেকে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার জন্য। সাথে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই রক্তবন্ধু আলমগীর হোসেন ভাইকে।

 

আব্দুল্লাহ আল মারুফ

roktobondhu.com


শেয়ার করুন: