প্রসঙ্গঃ স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ

স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ

শেয়ার করুন:

কয়েকটি কমন প্রশ্ন আমাদের অনেককে ফেইস করতে হয়। এখনো অনেকে জানেন না দেখে মনে সংশয় কাজ করে।

১. স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ একই হলে কি বাচ্চা হতে কোনো সমস্যা হবে?

২. হাজব্যান্ড ও ওয়াইফের রক্তের গ্রুপ same হলে কি বাচ্চার জন্মগত সমস্যা হয়?

৩. স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ ভিন্ন হলে কি সমস্যা হবে?

উত্তরঃ- কোনো সমস্যাই হয় না, হওয়ার কোনো কারণও নাই।

সমস্যা কখন হতে পারে সে ব্যাপারেও জানতে পারবেন এই পোস্ট ভালোমতো পড়লে।

সাধারণ পরিসংখ্যানের হিসাবে আমরা জানি –
সারা পৃথিবীতে ৩৬% ও গ্রুপ, ২৮% এ গ্রুপ, ২০% বি গ্রুপআর এশিয়াতে প্রায় ৪৬% মানুষের রক্তের গ্রুপ “বি”। আবার এশিয়ায় Rh নেগেটিভ অর্থাৎ নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের মানুষ ৫%, আবার ইউরোপ-আমেরিকাতে Rh নেগেটিভ প্রায় ১৫% এর মতো।

বি.দ্র. আলোচনায় পজিটিভ গ্রুপ বা নেগেটিভ গ্রুপ বলতে (A, B, O, AB) এর যে কোন গ্রুপকে বুঝানো হয়েছে।

যেখানে আমাদের অঞ্চলে অধিকাংশ মানুষের রক্তের গ্রুপ একই, সেখানে জামাই বউয়ের রক্তের গ্রুপ মিল হবে বা মিলে যাবে সেটা তো খুব স্বাভাবিক। এতে কোনো প্রকার সমস্যা হয় না। রক্তের গ্রুপ (ABO) আলাদা হলেও কোন সমস্যা নাই।

এখন মূল আলোচনা হলো পজিটিভ-নেগেটিভ নিয়ে মানে রক্তের গ্রুপের Rh পজিটিভ, Rh নেগেটিভ নিয়ে।

🩸স্বামীর যদি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত হয়, স্ত্রীরও যদি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত হয়- কোন সমস্যা নাই।

🩸স্বামীর যদি নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত হয়, স্ত্রীরও যদি নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত হয়- এতেও কোন সমস্যা নাই।

🩸স্বামী যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয়, স্ত্রী যদি পজিটিভ গ্রুপের হয় তাহলেও সমস্যা নেই।

কিন্তু

🩸🩸স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় এবং স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি পজিটিভ থাকে তাহলে সমস্যা হয়ে থাকে যাকে Rh Isoimmunization বলে।

অর্থাৎ সমস্যা হতে পারে যখন হাজব্যান্ডের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ (Rh+) হয় আর ওয়াইফের রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ (Rh-) হয়।

তবে এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের উপায়ও একটা আছে।

নিচে একটি ছক এর মাধ্যমে সহজে তুলে ধরা হলো।

ছক: সুব্রত দেব, গ্রাফিক: মামুনুর রশিদ

স্বামীর রক্তের (Rh) গ্রুপ পজিটিভ আর স্ত্রীর রক্তের (Rh) গ্রুপ নেগেটিভ হলে-

পজিটিভ রক্তের গ্রুপের স্বামী; নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের স্ত্রীর প্রথম সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয় তাহলে কোনও প্রকার সমস্যা হয় না।

বিপত্তি হয় তখন যদি প্রথম সন্তান বাবার রক্তের (Rh) গ্রুপ পায় অর্থাৎ বাচ্চা যদি পজিটিভ হয়। এই পজিটিভ রক্তের গ্রুপের গর্ভাবস্থায় সাধারণত কোন ঝামেলা হয় না। তবে এই সন্তানের জন্মের সময় (ডেলিভারি সময়) বাচ্চার পজিটিভ রক্ত মায়ের নেগেটিভ রক্তের সাথে মিশে যায় যা গর্ভাবস্থায় দুরুহ ব্যাপার, যদিও ০.১% ক্ষেত্রে রক্তের এই মিশ্রণ গর্ভাবস্থায়ও হতে পারে।

মায়ের নেগেটিভ রক্তের সহিত বাচ্চার পজিটিভ রক্তের এই মিশ্রণের কারণে মায়ের রক্তে এক ধরণের Antibody তৈরি হয়ে থাকে যা পরবর্তী গর্ভাবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে। পরবর্তী গর্ভাবস্থার বাচ্চাটি যদি আবারও পজিটিভ গ্রুপের হয় তবে এই Antibody দ্বিতীয় বাচ্চাটিকে নষ্ট করে দেয়। এ কারণেই প্রথম পজিটিভ সন্তান জন্মের পর পরই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Rh Anti-D antibody নামক একটি প্রতিরোধক ইঞ্জেকশান মাকে দিতে হবে। এই প্রতিরোধক ইঞ্জেকশান মায়ের শরীরে মিশ্রিত হয়ে যাওয়া বাচ্চার লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয় এবং কোনও ধরণের Antibody তৈরি হতে দেয় না। ফলে পরবর্তী বাচ্চা পজিটিভ হলেও কোনও সমস্যা হয় না।

নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মায়ের পজিটিভ গ্রুপের বাচ্চা ডেলিভারির পর যদি Rh Anti-D antibody নামক একটি প্রতিরোধক ইঞ্জেকশান মাকে না দেয়া হয় তবে পরবর্তী পজিটিভ বাচ্চা জন্মগতভাবে রক্তশূন্যতা, জন্ডিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে, এমন কি গর্ভে সন্তান মারাও যেতে পারে।

অর্থাৎ পজিটিভ গ্রুপের বাবা আর নেগেটিভ গ্রুপের মায়ের সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে মাকে Rh Anti-D ইনজেকশন দিতে হবে।
আর যদি রিভার্স অর্থাৎ বিপরীত ঘটনা ঘটে অর্থাৎ মায়ের রক্তের গ্রুপ যদি পজিটিভ এবং বাচ্চার রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় তাহলেও কোন সমস্যা নাই।

তাহলে আমরা কী মনে রাখবো?

পুরুষ যদি পজিটিভ গ্রুপের হয়, স্ত্রী যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয় এবং তাদের গর্ভের সন্তান যদি পজিটিভ গ্রুপের হয় তাহলে এই বিশেষ ইনজেকশন দিতে হবে।
আর এরকম ঘটনা ঘটলে ডাক্তারই আপনাকে জানিয়ে দিবে!

Dr. Sayed Sujon
Dr. Nazia Binte Alamgir
Dr. Asif Mohammad Rezwan Khan
Dr. Tofael Ahmed

অনেকের ভ্রান্ত ধারনা – বাবা মায়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হয়। এটাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগ ক্রোমোজোম এবনরমালিটি থেকে হয়।

রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া কেন হয়, প্রতিরোধ এর উপায় জানতে ক্লিক করে পড়ে নিন। 

কোন স্বামী কি তার নিজের স্ত্রীকে রক্তদান করতে পারবে? করলে কি সমস্যা হতে পারে?

বিস্তারিত জানতে Link থেকে পড়ে নিন।

roktobondhu || রক্তবন্ধু


শেয়ার করুন:

Facebook Comments