রক্তদানের পর হাতে দাগ ও ব্যথা ?

শেয়ার করুন:

রক্ত দেওয়ার পর কারও কারও হাতে এমন লাল বা কালচে রং এর দাগ দেখা দেয়, এতে অনেকেই ভয় পেয়ে যান।

মাঝেমধ্যে এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেখা যায়! আমি এর আগে “এতোবার রক্ত দিয়েছি, এমন তো হয় নাই”
আর সেটা যদি কারো প্রথম রক্তদান হয়, তাহলে তো….!

এতে ভয়ের কিছু নেই, এটা কোন সমস্যা নয়। ২/৩ দিনের মধ্যে কিংবা এক সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনিই সেরে যাবে।

কেন এরকম হয় 🤔 ?

কয়েকটা কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

যখন ভেইন বা রগে সুচ/নিডল ফুটানো হয় বা প্রিক করা হয় তখন যদি কোন কারণে ভেইন থেকে রক্ত নিম্ন ত্বকে ঢুকে যায় তখন রক্তের ঐ সামান্য অংশ চামড়ার ভিতরে ছড়িয়ে যায় এতে লালচে-কালচে দাগ দেখা দিতে পারে। সুচ বা সিরিঞ্জ বের করার সময়ও এভাবে চামড়ার নিচে অর্থাৎ ত্বকের নিম্নবর্তী (subcutaneous) অংশে রক্ত প্রবেশ করতে পারে। এতেকরে এমনটা হতে পারে।

শতকরা ২/১ জনে এরকম হতে পারে। রক্তটা ভেতরে জমাট বেঁধে আছে, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন সময় লাগবে শুধুমাত্র।

আপনার যদি এলার্জি থাকে, রক্ত দেয়ার সময় টিউব বা ফিতা দিয়ে অনেক্ষণ হাত বাঁধা থাকার (tourniquet) জন্য এরকম র‍্যাশ বা স্কিনে ছোটছোট লাল ফুসকুড়ির মতো দাগ হতে পারে।

যে ব্যক্তি রক্ত টেনেছিলো- নিডল বের করার সময় ভুল করে বা অসাবধানতা বশত কয়েক ফোঁটা রক্ত চামড়ার নিচে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে এমনটা হয়। অনেক সময় দক্ষ টেকনিশিয়ানের কাছেও এরকম মিসটেক হয়ে যেতে পারে। ভয় পাওয়া কিংবা অসদাচরণ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিডল বা সুচ খুলে নেয়ার পর ছিদ্র করা জায়গাটাতে অযথা বেশি মালিশ কিংবা চাপাচাপি করলেও এমনটা দেখা যেতে পারে।

এছাড়াও অন্য যে কোন কারণে যদি চামড়ার নিচে রক্ত থেকে যায় তাহলেও এমন হতে পারে।

১। যখন নিডল/সুঁই প্রবেশ করানো হয়, তখন অনেক সময় খুবই স্বল্প পরিমানে রক্ত সেখান থেকে বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
নিডল প্রবেশ করাতে বেশ কষ্ট হলে বা ভেইন খুঁজে পেতে ঝামেলা হলে এমনটা হয়ে থাকে।

২। যেখানে নিডল প্রবেশ করানো হয় তার চারপাশে ছোট ছোট ভেইন থাকে সেগুলো আঘাত পেলে এমনটা হতে পারে।

৩। রক্তদান করার পর সচরাচর দেখা যায় রক্তদাতার হাতে তুলা দিয়ে বা কোনরকমে ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে হাত ভাঁজ করে বসিয়ে রাখা হয়। নিডল বের করার পর রক্ত বের হওয়া বন্ধ করতে যতটুকু প্রেশার/চাপ দেওয়া উচিত ততটুকু চাপ প্রয়োগ করা হয় না। আবার অনেকে চেপে ধরে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করে।

৪। রক্তদানের পর রক্তদানকৃত হাত দিয়ে ভারী কিছু বহন করলেও এমন হতে পারে।

যদি কারও ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রেও এমন হতে পারে৷

সাবধানতা, সমাধান ও পরামর্শ 
খুব সাধারণত এমনটা দেখা যায় না। তবে যদি কেউ এমন পরিস্থিতিতে পরেন তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনার হাতে বা চামড়ায় কোন কিছুর চাপ, টান, ধাক্কা লাগলে যেমন ২/৩ দিন পর ঠিক হয়ে যায় এটাও ঠিক তেমনই। শুধু হাতটা একটু কম নাড়াবেন। কারণ এই সময় হাত বেশি নাড়ালে অতিরিক্ত কিছু রক্ত আবার চামড়ার নিচে চলে আসতে পারে এবং আবারও একই অবস্থা দেখা যেতে পারে।

অযথা চাপ দিয়ে মালিশ করবেন না। সুচ ফুটানো যায়গায় ঘষাঘষি করবেন না। যদি কালচে হয়ে যায়, বরফ কুচি দিতে পারেন।

ভয় না পেয়ে কমপক্ষে ৭টা দিন অপেক্ষা করুন। ঠিক হয়ে যাবে।

রক্তদানের পরপরই ঐ হাত দিয়ে ভারি কিছু উত্তোলন করবেন না। ক্রিকেট খেলোয়াড় হলে বোলিং করবেন না! ছক্কা হাঁকাবেন না! 

নজরুল ভাইয়ের ফ্রি Tip: চা বানানোর পর ঠান্ডা টিব্যাগ দিয়ে মুছে দিলেও বেশ ভালো কাজে দেয়।
টাকা দিয়ে চা খাওয়াও লাগবে না। চায়ের দোকানে গিয়ে বলবেন, “ভাই, টি-ব্যাগটা ফেলে না দিয়ে আমাকে দেন!” এরপর হাতে লাগিয়ে দিবেন।

এরপরও যদি স্বাভাবিক না হয়, যদি ব্যথা করে তাহলে উক্ত স্থানে বরফ লাগিয়ে দিন। এরপরও খুব বেশি সমস্যা মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারকে দেখাবেন, ভীত ও আতংকিত না হয়ে পরামর্শ করবেন। 

রক্তদানে ভয় নয়, উৎসাহ প্রদান করুন!
রক্তদানের আহ্বান ছড়িয়ে দিন।

হ্যাপি ব্লাড ডোনেটিং   🤗

roktobondhu || রক্তবন্ধু

রক্তবন্ধু ফেসবুক গ্রুপে Join হতে এখানে ক্লিক করুন


শেয়ার করুন:

Facebook Comments