রক্তের রিজিক!

শেয়ার করুন:

গতকাল ইতালি থেকে রক্তবন্ধুর what’s app এ নক আসে। শরীয়তপুরে সেই প্রবাসী আল আমিন ভাইয়ের “বন্ধুর মায়ের জন্য” এমার্জেন্সি ভাবে AB+ রক্ত লাগবে। কোথাও কোনভাবে পাচ্ছেন না। উনি প্রবাসে বসে হয়রান হয়ে রক্ত খুঁজছেন।
সচরাচর আমরা ওয়েবসাইটে ব্লাড গ্রুপ, জেলা ও সকল উপজেলা দিয়েই খুঁজতে বলি, গ্রুপে পোস্ট দিতে বলি।
তিনি ওয়েবসাইটে কাউকেই পান নাই। অর্থাৎ কোন রেজিস্ট্রেশন নেই।
অলস বসে ছিলাম। নিজেরও একটু দেখতে ইচ্ছে হলো। আমি ব্লাড+প্লাটিলেট “উভয়” দিয়ে সার্চ করে প্লাটিলেট সেকশনে আমাদেরই এডমিন শহীদুল্লাহ্ এর নাম দেখে চমকে গেলাম!

ঠাকুরগাঁও এর ছেলেটা গাজীপুরে থাকে। এরে কেন শরীয়তপুরে দেখাচ্ছে!!

আমাদের গ্রুপে তাকে মেনশন দিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে যে রিপ্লাই পেলাম,

❝গাজীপুর থেকে ঢাকা বসুন্ধরাতে ৬মাস চাকরি করলাম। মে মাসে এখানে মেঘনা গ্রুপে (ফ্রেশ সিমেন্ট) উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে জয়েন করছি। থাকি শরীয়তপুর জেলা শহরে। সম্পূর্ণ জেলা দেখা লাগে। আপাতত এখানে স্থায়ী বাসিন্দা❞

আসলে সবাই নিজেদের কাজে এতো ব্যস্ত যে, আমাদের নিজেদের ব্যক্তিগত আলাপও হয় না! জানিও না যে সে শরীয়তপুর চলে গিয়েছে!!…

আলোচনা করলাম, শরীয়তপুরে রক্ত দিতে পারবে কি না। সে রাজি এবং প্রস্তুত। তবে…… জানালো ❝কাল বিকাল ৫টার পর হলে দিতে পারবো। সকালে জাজিরা যেতে হবে❞

যাই হোক, রোগীর তথ্য নিলাম। শরীয়তপুরের জাজিরায় রক্ত লাগবে!!!!

আল্লাহর কি মহিমা!! এটাও রিজিক! রক্তের রিজিক। কে জানতো তার রক্ত সেখানে গিয়েই আরেকজনের লাগবে!
রোগীর স্বজন কি স্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিলো উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলেটার রক্ত শরীয়তপুরে পাবে!
সে যদি roktobondhu ওয়েবসাইটে প্রোফাইল আপডেট (লোকেশন আপডেট) না করতো, তাহলে তো তাঁকে পেতাম না!!

অবশেষে আলহামদুলিল্লাহ।
আমাদের রক্তবন্ধুর এডমিন শহীদুল্লাহ্ সাহেবের
২৮বারের মতো AB+ লাল ভালোবাসা উপহার দেয়া হলো।
হোলব্লাড ১৪বার, প্লাটিলেট ১৪বার।
সব মিলিয়ে ২৮বার।
১ জনের কাজে লাগলেও এটাই আমাদের সার্থকতা! পাওয়ার অব roktobondhu.com

দুঃখের বিষয় হলো অনেক সংগঠনের অনেকেই রক্ত খুঁজেন, কিন্তু নিজেরা রক্তদাতা হয়েও রেজিস্ট্রেশন করেন না! প্রচার তো দূর কি বাত!

প্রবাসী ভাইয়ের কাছে আমরা হাদিয়া হিসেবে দোয়া গ্রহণ করেছি।

আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।
10 August 2026

-Tasnimul Bari Nabin


শেয়ার করুন:

Facebook Comments