স্মৃতির পাতায় ১৯ সেপ্টেম্বর

শেয়ার করুন:

রক্তদানের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিলো। অক্ষমতার কারণে, প্রথমদিকে আমি নিজে রক্ত না দিলেও, প্রচুর মানুষকে রক্তদান করিয়েছি। আমি লেখাপড়া করতাম খোলাহাটি ক্যান্টপাবলিক পার্বতীপুর, দিনাজপুরে । ক্যান্টপাবলিকের মতো স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করে ৪০ কিলোমিটার দূরে ডোনার নিয়ে যাওয়া ছিল আকাশ-কুসুম কল্পনার মতো। তবুও চেষ্টা করতাম সাধ্যমতো রংপুরে কিংবা পার্বতীপুরে ডোনার দেয়ার। রংপুর, দিনাজপুরের বাইরে নিজ জেলা কুড়িগ্রামেও আমাদের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে (আবির্ভাব ফাউন্ডেশন) রক্ত সংগ্রহের কাজ করতাম।

লগ্ন’র রক্তদান

আমি যখন রক্তের ডোনার নিয়ে রংপুর যেতাম, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সব খরচ নিজেই বহন করতাম। আবেগ ও ভালোলাগার জায়গা থেকেই এসব করা। কখনও এসব নিয়ে আক্ষেপ হয় নি। মেসের বন্ধুরা আমাকে রক্তব্যবসায়ী, রক্তচোষা ইত্যাদি নামে ডাকতো! আবার এটাও বলত, “ব্যাটা নিজে রক্ত দ্যায় না, মানুষের রক্ত নিয়ে ব্যবসা করে”। আমি কখনও নিরুৎসাহিত হই নি। তবে, সবার বলার পরিমাণটা বেড়ে গেলে, আমার খুব খারাপ লাগতো। দু’আ করতাম, নিজে যেদিন শারীরিকভাবে ফিট হবো, সেদিনই রক্তদান করবো।

২০১৮ সালের আজকের এই দিন, ১৯ সেপ্টেম্বর। শরতের সকাল। ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়লাম। হাঁটলাম। টেবিলে বসে, ভাবলাম ফোনটা হাতে নিই। হাতে নিতেই দেখি, নাজমুল ভাই (বন্ধু মানবকল্যাণ সংস্থা, রংপুর) গভীর রাতে ফোনে বার্তা পাঠিয়েছে, “Logno, O+ lgbe, ready aso?”

সেদিন আর সময় নষ্ট করি নি। সকালের দোলনচাঁপা ট্রেনে করেই রংপুরের পথ ধরলাম। যাচ্ছি একাই, তবে বুকে ছিলো উদ্যম। গেলাম, রক্তদান করলাম, ফিরে এলাম। আমার এখনও মনে আছে, সেদিন প্রথম রক্তদানের পর প্রায় ২৮ মিনিট কিছুই মুখে দিই নি। তারপর পানি খেয়েছিলাম। কারণ, উৎসাহের কাছে ভয়, পিপাসা কোনটাই পাত্তা পায় নি। এর মধ্যেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচ নম্বর ফ্লোরে দু’বার ওঠানামা করেছিলাম। মনের ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল পিছুটান, ঘরকুনো ছিল ক্লান্তি।

যদি প্রেয়সীর প্রেমের তরে নিজেকে সঁপে দিতে হয়, জীবনের গোধুলীতেও তাঁকে বলব,

“আগে রক্তদান, তবেই, ভালোবাসি তোমাকে জান…”

আতিক মেসবাহ্ লগ্ন,

রক্তবন্ধু, কুড়িগ্রাম।


শেয়ার করুন:

Facebook Comments