সাজেদা আপা
Author: রক্তবন্ধু | 09 Oct 2021
সাজেদা আপা। একটা ভালবাসার গল্পের নাম। লম্বা গল্প। শুরুতে একটু পুনঃপ্রচার করি। গত ২১ ডিসেম্বরের রাতে (২০১৯) কনকনে শীতে এই দুঃসাহসী আপা টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহ গিয়ে রক্তদান করা একজন মহান মানবী। তাও আবার প্রথমবারের মতো রক্তদান! বিকাল চারটায় বাড়ির কাউকে না জানিয়ে একা রওনা দিলেন ময়মনসিংহ। রক্তদান শেষে ঢাকা-টঙ্গী ফিরতে রাত ১টা বেজে গিয়েছিলো।
সাজেদা আপা- বিশ্বাস করবেন না ভাইয়া আমার যা শীত লেগেছিলো ঐ বার! খুব কষ্ট হয়েছিলো।
আমি- এ পজিটিভ ব্লাড, ওদিকেই ম্যানেজ করা উচিত ছিলো তাদের। যাক, বাড়িতে কিছু বলে নি??
সাজেদা আপা- হিহিহি! আমি তো না বলে গিয়েছিলাম। পরে যখন বাসা থেকে ফোন দিচ্ছিলো বলেছি আমি বাসে করে যাচ্ছি ভালো আছি, রক্তদান করেই চলে আসবো। রাত সাড়ে ৮ টায় পৌঁছে রক্তদিয়ে আসতে আসতে রাত ১টা বেজে গিয়েছিলো।
অবশ্য বলে গেলেও বাঁধা দিতো না, জানে আমাকে বাঁধা দিয়ে লাভ নাই!!
জানেন ভাইয়া, ঐ রোগির লোক ছেলেটা আমাকে এখনো নিয়মিত ফোন দেয়। আমিও দেই। একটা রক্তের সম্পর্ক হয়ে গেছে না?! আমাকে মাঝে মাঝেই ফোন দিয়ে বলে “আমি আপনার উপকার জীবনেও ভুলবোনা! আমিও সময় হলে রক্তদান করবো।”
আজকের গল্পঃ (২১ এপ্রিল ২০২০)
কড়া লকডাউন। টঙ্গী থেকে রিক্সায় উত্তরা গিয়েছেন। বাড়িতে মা’কে বলেছেন রোগী দেখতে যাচ্ছেন। যাওয়ার সময় সমস্যা হয় নাই। রক্তদান শেষে ফেরার সময় পুলিশ দুই জায়গায় আটকালে পরে হাতের ব্যান্ডেজ দেখিয়ে, রক্তদানের কথা শুনে খুশিমনে ছেড়ে দিয়েছে।
রোগির লোক কল দিলে-
-প্রথমে ধমক দিয়েছি। ৯ মাস কি করছেন?
ভাবছি ভয়ে বুঝি ফোন দিবে না! আমার কপাল! ! পরে আবার কল দিয়েছে
রোগির লোক– আপা, ডোনার পাচ্ছি না। লকডাউন এর জন্য। প্লিজ!
এইবার আপা বিকাল ৩ টায় গিয়ে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে রক্তদান করে রাত্রে ফিরলেন। সিজার করতে হয়নি। নরমাল ডেলিভারি। বাচ্চার মায়ের বয়স বেশি না আর দুর্বল। রক্ত লেগেছে। ডেলিভারির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন। (ডাক্তার ভালো ছিলো, রক্ত টেনে রাখে নাই, ধৈর্য ধরে অপেক্ষার অনুরোধ করেছেন)
অনুভূতি- ভাইয়া, বাচ্চাটা যা সুন্দর হয়েছে না!! কি আর বলবো! ইস! অন্নেক সুন্দর (এই আত্মতৃপ্তির হাসি শুনেছি আমি, লিখে বুঝানো সম্ভব না)
- আমি- তা আপা আপনার বাড়িতে শ্বাশুড়ি কিছু বলে না?
– নাহ! আমাকে কেউ কিছু বলে না। শ্বাশুড়ি খুউব ভালো। শুধু মা একটু মাঝেমাঝে বকাঝকা রাগারাগি করে। আজকেই যখন ফিরলাম, হাতে ব্যান্ডেজ দেখে রাগ করে বললো তুই এতো রক্ত দিয়ে কী মজা পাইস? ঐ দিনই তো রক্ত দিলি! এতো ঘন ঘন….
— না মা, ৪ /৫ মাস হয়ে গেছে তো!
মা- একদম মিথ্যা বলবি না! (মায়ের মন, মেয়েটা যাওয়ার সময় তো রোগি দেখার নাম করে মিথ্যা বলে গিয়েছে !)

রক্তদানের পর সাজেদা আপার ফেইসবুকে পোস্ট (আইডি ডিজেবল হয়ে গিয়েছে)
সাজেদা আপার বড় ছেলে সাজিদ । সে ১৭ বছর বয়সেই রক্তদান( B+ve) শুরু করেছে৷ দুই বছরে ৭/৮ বার দেয়াও হয়ে গিয়েছে! তার এক বন্ধুর এক্সিডেন্ট হলে ১০-১২ ব্যাগ রক্ত লেগেছিলো। বন্ধুরা সবাই দিয়েছিলো। উপায় না পেয়ে ১৮ এর আগেই দিতে হয়েছিলো।
Sazeda Islam আপার তিন সন্তান। আপা A+
সন্তানদের সবাই B positive…
Yes!! Family of Be positive 😍
আপার সাথে ফেসবুকেই পরিচয়। আপার বিয়ে ১৪ বছরে। অল্প বয়সে গুণবতী মা হতে পেরেছেন। বড় ছেলেটা অনার্স শুরু করেছে। মেজো মেয়েটা এইবার HSC পরীক্ষার্থী। লকডাউনের জন্য পরীক্ষা আটকে আছে। দোয়া করবেন সবাই। ছোট ছেলেটাও বড় হচ্ছে। সেই পিচ্চিটি দেখেছিলাম জিহানকে ছবিতে। সেও নাকি আপার ফেসবুক আইডিতে ঢুকে। লাইক কমেন্ট করা শিখে গিয়েছে৷
এখন ফাইভে পড়ে। ক্লাশ টু তে পড়তেই জেনেছে ওর রক্ত বি+। ছেলে বলেছে “আম্মা, আমিও কিন্তু বড় হলে রক্ত দিবো”
ছোট ছেলেটা বড় হচ্ছে।
আপাও অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
বলেন তো কেন?
Tasnimul Bari Nabin
ROKTOBONDHU
21.4.2020
অন্যান্য পোস্ট সমূহ
একজন রক্তদাতাকে আরেকজন রক্তদাতার রক্তদান
Author: রক্তবন্ধু | 21 Jul 2026
ঢাকায় এ পজিটিভ লাগলেই আমি সবার আগে Pearl Matthew কে কল দেই- সময় হয়ে গেলে সে কখনো না করে না। সেই পার্ল যখন হঠাৎ...
আমার ২১ তম রক্তদান
Author: রক্তবন্ধু | 14 Jul 2026
রোগীর নাম সুজন, পেশায় একজন ভ্যানচালক। থ্যালাসেমিয়া রোগে ছোট থেকেই ভুগতেছে। আমি একজন ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত রক্তদান করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি রক্তিম পঞ্চগড় এর...
কারো বেঁচে থাকার মিছিলে আমি আছি
Author: রক্তবন্ধু | 27 Mar 2026
চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল আর স্বজন হারানোর আহাজারি—সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মনটা এক অজানা বিষাদে ভরে ওঠে। খুব অসহায় বোধ করি, মনে মনে ভীষণ আফসোস...
Facebook Comments