রক্তদানের অপেক্ষায়

শেয়ার করুন:

আমার সাথে ঘটে যাওয়া রক্তদানের গল্প

সালটা ছিলো ২০১১। জীবনের প্রথম রক্তদান ছিলো আমার। ঢাকা ক্যান্সার হসপিটালে এক ক্যান্সার রোগীর জন্য এবি+ রক্ত লাগবে। তাই আমাকে নিয়ে এক ভাই ঢাকা রওনা দেয়, খুব ভয়ে ছিলাম এতো মোটা সুই শরীরে ঢুকাবে! সারা রাস্তায় টেনশন করতে করতে হসপিটাল যাই, প্রথমে আমার স্যাম্পল নিলো, আমি ভয়ে চুপ করে বসে ছিলাম। শরীর নড়ে না! নার্স বলে প্রথমবার নাকি ভাই? আমি বলাম হ্যাঁ ম্যাডাম, তারপর বললেন ভয়ের কিছু নাই ভাইয়া। সারাদিন কত মানুষ দিচ্ছে, আমি নিজেও ৪-৫ বার দিয়েছি, কোনো ভয় নাই।
১ ঘন্টা পরে আমাকে ডাকলো। আমি আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে ঢুকলাম! বেডে শুইলাম, আর এক নার্স আসলো। ব্লাড ব্যাগ নিয়া ব্যাগে মোটা সুই দেখে আমি অবাক! ফেস টু ফেস ফিল করি নাই কখনো। যাই হোক ব্লাড তো দিতে গিয়েছি, সাহস করে দিবই ইনশাআল্লাহ।

নার্স আমাকে স্বান্তনা দিয়ে উল্টো দিকে তাকাতে বললো। আমি তাকাইছি আর তিনি সুই ঢুকায় দিলেন রগে!
প্রথম একটু ব্যথা ফিল করেছি তার পর মনে হলো ৪ মিনিট লাগে ১ ব্যাগ রক্ত ব্যাগে ফিল হতে।

আলহামদুলিল্লাহ রক্ত দিয়ে দিলাম। ২০ মিনিট আমাকে বেডে শুইয়ে রাখলো। স্যালাইন পানি জুস খাওয়ালো। আর বার বার নার্স বলছেন, ২০ মিনিট এর আগে উঠবেন না কইলাম।

এখন চলে ২০২৩ সাল। সেই ভিতু আল আমিনের এখন ব্লাড দেয়া নিয়মিত অভ্যাস হয়ে গেছে। কিসের ভয়? আল্লাহ রহমতে আপনাদের সবার দোয়ায় ২০১১-২০২৩ পর্যন্ত ৩৯ বার রক্তদান করেছি আমি। আলহামদুলিল্লাহ। ইচ্ছে ১০০ ব্যাগ, যদি আল্লাহ হায়াত রাখে ইনশাআল্লাহ। ১০০ ব্যাগ দিতে আর মাত্র ৬১ ব্যাগ বাকি। সবাই আমার জন্য খাস দিলে দোয়া করবেন।

আলহামদুলিল্লাহ আমার রক্তদানের সময় হয়ে গেছে। ১৬-১২-২০২৩ বিজয় দিবস উপলক্ষে ৪০ তম এবি+ রক্ত দিতে আমি প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।

আমি নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা সহ কক্সবাজার সদর হসপিটাল
বরিশাল, কুমিল্লায়ও রক্তদান করেছি।

আল আমিন
নারায়ণগঞ্জ।

১২ ডিসেম্বর ২০২৩


শেয়ার করুন: