যেভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদানে আবদ্ধ হলাম

শেয়ার করুন:

আমি যেভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদানের কাজে আবদ্ধ হলাম

-আলমগীর হোসেন 

তখন ২০১৮ সাল, পবিত্র মাহে রমজান। (১৫ই রমজান)।
ছোট ভাই গুরুতর এক্সিডেন্ট করেছে। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তাৎক্ষণিক রেফার্ড করা হয় রংপুরে।

রংপুর পৌঁছাইলাম রাত বেজে ১১ টা। রংপুর কমফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। ডাক্তার ৮ ব্যাগ এ নেগেটিভ রক্তের চাহিদা দেয়। তার শরীরে একদম রক্ত নেই।
কোথায় রক্ত পাই? তখন স্বেচ্ছাসেবী জগতের কিছুই জানি না, কাউকেউ তেমন চিনি না বলা যায়। যাদের চিনি তাদেরকে রিকোয়েস্ট করা হলে তারাও ব্যর্থ হয়।
অনেক জন টাকা বিকাশ করে চেয়েছিলো। তাদের জানিয়েছি রক্ত দিয়ে যান। টাকা লাগে আমি দিব। কিন্তু তারা ছিল প্রতারক। তাই তারা আসে নাই।

রোগী ১৬ ঘন্টা মৃত্যু শয্যায় রয়েছে। কোথাও রক্ত পাচ্ছি না। এমতাবস্থায় জানতে পারি গ্রামে এক পরিচিত ছেলের রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ এবং সম্পর্কে মামা হবে একজন তারও এ নেগেটিভ।
তাদের বলা হলে তারা রক্ত দিতে রাজি হয়।
তখন থেকে রক্তদানের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজেকে জড়ানোর প্রতিজ্ঞা করি।
তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ গুলো যেন রক্তের প্রয়োজনে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য বিভিন্ন গ্রাম/মহল্লায় রক্তদান বিষয়ক কার্যক্রম শুরু করি।
নিজেও রক্ত দেই। অন্যকেও রক্তদানে উৎসাহ করি থাকি।
আজ আমার সেই ভাই প্রথম এ নেগেটিভ রক্তদান করলো। 

প্রাণ প্রিয় ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম এর প্রথম এ নেগেটিভ রক্তদান।

প্রাণ প্রিয় ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম এর প্রথম এ নেগেটিভ রক্তদান। (১৪ আগস্ট, ২০২৩)

স্থানঃ নিউ লাইফ ক্লিনিক, পঞ্চগড়।

এই ভাইয়ের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদানের কার্যক্রমে আবদ্ধ হয়েছি।

সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন প্রতি চার মাস পর পর অন্যের রক্তের প্রয়োজনে সাড়া দিতে পারেন।

আজ আমি একজন নিয়মিত বি নেগেটিভ রক্তযোদ্ধা। রক্তিম পঞ্চগড় নামে একটি সংগঠনে জড়িত হয়েছি। যুক্ত আছি বি নেগেটিভ ব্লাড ডোনার, রক্তবন্ধু সহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্লাটফর্মে।

১২/০৮/২৩ ইং তারিখে ১২ তম বি নেগেটিভ রক্তদান সম্পন্ন করেছি।

আলমগীর হোসেন
বি নেগেটিভ
পঞ্চগড়।


শেয়ার করুন: