মনতাজের এ প্লাস প্রাপ্তি
Author: রক্তবন্ধু | 31 Oct 2020
সত্য ঘটনা অবলম্বনে
(পঞ্চগড়ের আঞ্চলিক ভাষায়)
উজ্জ্বলের কম্পিউটারের দোকানে একজনকে রক্তবন্ধুর ওয়েবসাইটখানা ও এর কার্যক্রম বুঝাচ্ছিলাম।
পাশ থেকে মনতাজ ভাই আগ্রহ ভরে-
“কি এইডা, জিনিসটা মোকো বুঝাতো”
–ভাইয়া, এইডা রক্ত বিষয়ক… এই এই ব্যাপার।
দেখে, বুঝার পর-
– “মুহ ব্লাড দিম”
–ধের! তোরহে দেহাডার যে অবস্থা!
– “নাহায় ভাইয়া হারামো দিম। মোর শরীল, ওজোন ঠিক আছে”
–তোর রক্তের গ্রুপ কি?
-“ঐডা তো ভুলে গেইছু। ঐদে তুম্হরা ভেলদিনে একবার হাইস্কুলত চেক কো দিসিলেন, কাগজত লেখা আছে বাড়িত। ঐখানো দে হেরায় গেইছে!”
–আচ্ছা, আরেকবার গুরুপটা চেক করে দিম।
-“কিন্তু ভাইয়া মুই তো কাম কোরে খাউ। দিনমজুর। দিনের বেলা কেংকো দিম?”
— রাতিত দিবো! যার দরকার ওয় রাতিত নেগাবে তোক।
-“তাহিলে তো কুনো সমস্যায় নাই। মোরহ নামডা ঐঠে এজিস্টেশন কোরে দিস”
( সংক্ষেপিত)
জ্বী, ইনি কোকিল কণ্ঠি মনতাজ ভাইয়া, একটু গাইড পেলে নিশ্চিত কোন রিয়েলিটি শো’তে গান গেয়ে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারতেন।
ছোট বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে সন্ধ্যায় শাপলা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে যেতাম। ভাইয়া ব্যান্ডের, আধুনিক বাংলা সহ নানা রকম হিন্দিগান প্রায় অবিকল গেয়ে শোনাতেন। এলাকায় তিনি একজন দক্ষ দাবারু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দাবা খেলাটা তার ‘নেশা’ দেখেছিলাম। ছেলেবেলায় মাঠে-ঘাটে, ব্রিজ-কালভার্টে তাকে দাবা খেলতে দেখা যেতো।
জীবিকার তাগিদে ঝালমুড়ি, আমড়া বিক্রি করেছিলেন এক সময়।
আর হ্যাঁ, পরদিন টেস্ট করলাম, গ্রুপ বের হলো এ পজেটিভ। গ্রুপ জানালাম, বললেন “মোর ফমে রহিবানাহায়, একখান কাগজত নেখে দে ”
আমি বললাম, এ পেলাস ফম থুবা পারিবানিহিস? ফম থুবো মুই A+ পাইছু!
ভাইর খুশি আর কায় দেখে!!
– “আর ভুলিবায় নুহু।
লেখাপড়া না করেএ মুই এ পেলাস পাইছু….”
এই বলেই খুশিতে ভোঁ দৌড়….. এবার থেকে মনে রাখতে পারবেন এই ভেবে।
সমস্যা হলো ভাইয়ার একে তো দিনের বেলা রক্ত দিতে যেতে পারা সম্ভব না, ভাইয়ার আবার মোবাইল ফোনও নাই। একটা ফোন বাসায় থাকে ভাবীর কাছে। নাম্বারও মুখস্ত নেই তার।
তবে যেতে যেতে বলে গেলেন
“নবীন, কাহারো এ পেলাস অক্ত নাগিলে কহিস”
আজ এরকম এ প্লাস মনের খুব প্রয়োজন এই শিক্ষিত ফেল পড়া সমাজে।
লাগবে নাকি এ প্লাস রক্ত?
লেখা- মোঃ তাসনিমুল বারী নবীন

roktobondhu.com স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের ওয়েবসাইট। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাগণ রেজিস্ট্রেশন করুন।
রক্তদানের পরে ওয়েবসাইটে লগইন করে সর্বশেষ রক্তদানের তারিখ পরিবর্তন/আপডেট করে দিলে ঐদিন থেকে ১২০ দিন মানে আগামী ৪ মাস রক্তদাতার নাম কাটা অবস্থায় দেখা যাবে।
৪ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডোনারের নাম স্বাভাবিক ফন্টে দেখা যাবে।
প্রতিবার রক্তদানের পর লগইন করে অবশ্যই সর্বশেষ রক্তদানের তারিখ পরিবর্তন করে দিবেন।
N.B: নারী ডোনারগণ ফোন নম্বর গোপন রাখতে “নারী” সিলেক্ট করুন।
✅ বিস্তারিতঃ roktobondhu.com/details
অন্যান্য পোস্ট সমূহ
কারো বেঁচে থাকার মিছিলে আমি আছি
Author: রক্তবন্ধু | 27 Mar 2026
চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল আর স্বজন হারানোর আহাজারি—সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মনটা এক অজানা বিষাদে ভরে ওঠে। খুব অসহায় বোধ করি, মনে মনে ভীষণ আফসোস...
রক্ত গ্রহীতা যখন রক্তদাতা
Author: রক্তবন্ধু | 11 Nov 2025
১০ নভেম্বর, ২০২৫। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে Ayesha Anis বাসা থেকে বের হলেন। হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগল প্রায়...
জীবন থেকে পাওয়া
Author: রক্তবন্ধু | 27 Oct 2025
জীবন থেকে পাওয়া এক অনুপ্রেরণার গল্প... আমার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম আজ সে দ্বিতীয়বারের মতো “A Negative” রক্তদান সম্পন্ন করেছে। এটা শুধু একটি রক্তদান...
Facebook Comments