বান্ধবীর ভাইকে রক্তদান করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার দুই তরুণী

শেয়ার করুন:

সিলেটে বান্ধবীর ভাইকে রক্ত দিতে গিয়ে রাতভর হোটেল কক্ষে দুই তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নরপশুরা রাতভর ধর্ষণের পর ওই দুই তরুণীর কাছে জোরপূর্বক জবানবন্দি ও মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখে। ঘটনার পর ওই দু’তরুণী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এদিকে ঘটনার ৫ দিন পর রোববার রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশ দুই ধর্ষিতার দুটি মামলা রেকর্ড করেছে। তবে- গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে সিলেটে তোলপাড় চলছে। গত ২৩শে আগস্ট সিলেটের পাঠানটুলায় জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গ্রিন হিল আবাসিক হোটেলের ৪র্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার এক তরুণী (১৮) কয়েক মাস আগে আইএলটিএস পড়ার জন্য সিলেট মহানগরীতে এসে আরেক তরুণী এর সঙ্গে শাহজালাল উপশহরের একটি বাসায় থাকতে শুরু করেন।

উপশহর এলাকায় থাকার সুবাদে ওই এলাকার স্নেহা বিউটি পার্লারে গিয়ে তানিয়া (২৫) নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। তানিয়া সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার মেয়ে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তানিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে সিলেটে আইএলটিএস করতে আসা সেই তরুণীর। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুবাদে গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তানিয়া ফোন করে ওই তরুণীকে বলেন- তার ভাইয়ের জন্য এবি পজেটিভ রক্ত প্রয়োজন। ওই তরুণীর এবি পজেটিভ রক্ত হওয়ায় তিনি যেন এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার জন্য রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালে যান। এমন ফোন পেয়ে ওই তরুণী তার বন্ধবীকে নিয়ে তৎক্ষণাৎ রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালের সামনে যান। সেখানে গিয়ে তানিয়াকে দেখতে পেয়ে রক্ত দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি ওই দুই তরুণীকে জানান- রক্ত দেওয়ার আগে তার এক কাজিনের বাসায় একটু প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন শেষ করে তারা হাসপাতালে যাবেন। এ কথা বলে কৌশলে ওই দুই তরুণীকে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গ্রিন হিল আবাসিক হোটেলের ৪র্থ তলায় নিয়ে যান তানিয়া এবং তাদের দুজনকে আলাদা আলাদা কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এ সময় তানিয়ার সহযোগী কয়েকজন তরুণ ও যুবক এসে ওই দুই তরুণীকে আটকে রাখেন এবং রাত সাড়ে ১১টার থেকে একের পর এক ১০-১২ জন যুবক তাদের দুজনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এছাড়াও ভিকটিম এক তরুণীর (১৮) কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা পয়সা জোরপূর্বক নিয়ে যান তানিয়া ও ধর্ষকরা। পরদিন (২৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভিকটিম দুই তরুণীকে এক কক্ষে নিয়ে তাদের কাছ থেকে ‘ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি’ এ মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং এ কথাগুলো মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তাদের ছেড়ে দেন তানিয়া ও তার সহযোগীরা। তারা অসামাজিক কাজ করে বলে স্বীকারোক্তিও নেয় ধর্ষকরা। এরপর তাদের দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হলেও মোবাইল এবং টাকা রেখে দেয়া হয়। ঘটনার পর দুই ভিকটিম তরুণী জালালাবাদ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনার পর মোবাইল ফেরত পেতে ওই দুই তরুণী বার বার ধর্ষণের সহায়তাকারী তানিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি। সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন গতকাল জানিয়েছেন, ওই দুই তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তারা ধর্ষিত হয়েছেন প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তানজিনা আক্তার তানিয়া উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নং রোডের আলী ভিলা নামক ৫ তলা বাসায় ভাড়াটে থাকেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছে- গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোহাইমিন রহমান রাহি, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ গ্রামের মৃত তহুর আলীর ছেলে জুবেল, পাঠানটুলা এলাকার আলী আকবরের ছেলে রানা আহমদ শিপলু ওরফে শিবলু, সুনামগঞ্জ সদর থানার হরিণাপাট গ্রামের ফরহাদ রাজা চৌধুরীর ছেলে নাবিল রাজা চৌধুরী ও সুজন এবং অজ্ঞাত আরও কয়েক জন। আসামিদের মধ্যে শিবলু সহ কয়েকজন তাঁতী লীগ ও নাবিল সহ কয়েকজন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দুটি মামলায়ই প্রধান আসামি করা হয়েছে ধর্ষণকাণ্ডে সহায়তাকারী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়সিদ্ধি গ্রামের দবির মিয়ার মেয়ে তানজিনা আক্তার তানিয়াকে। সে সিলেট উপশহরের স্নেহা নামে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করে।

সূত্রঃ মানবজমিন

 

পরিচিত মানুষের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন সিলেটের দুই নারী। রক্তদানের জন্য ডেকে এই দুই তরুণীকে হোটেল নিয়ে যায় পূর্বপরিচিত তানিয়া।

এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলার জন্য আমরা সবসময় রক্তদাতাদের সবসময় বলি যেন হাসপাতালের ভেতরে রোগীর আত্মীয়ের সাথে দেখা করে। হাসপাতালের বাইরে নয়। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।

তানিয়াসহ সকল ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই আমরা।


শেয়ার করুন:

Facebook Comments