জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস
Author: রক্তবন্ধু | 02 Nov 2020
২ নভেম্বর, জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস
১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের পথিকৃৎ “সন্ধানী”। বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে সন্ধানীর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ছাত্রছাত্রী দ্বারা পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী সন্ধানীর ২৫টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ইউনিট ও ৯টি ডোনার ক্লাব নিরলস কাজ করে চাচ্ছে হাসপাতালের চাহিদামাফিক প্রতি ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করার।
রক্ত দানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়েও কাজ করে এবং মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একমাত্র সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সংগঠন হলো সন্ধানী। মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনের প্রাণপুরুষ শ্রীলঙ্কার ডা. হাডসন ডি সিলভা ১৯৮৪ সালের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছিলেন একজোড়া কর্নিয়া নিয়ে। রংপুরের অন্ধ কিশোরী টুনটুনির দুই চোখে সেগুলো স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব দূরীকরণ লক্ষ্যে জন্ম হয়েছিল ‘সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি’র।
সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
জাতীয় রক্তদানঃ
১৯৭৭ সালে হঠাৎ একদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক ছাত্র সন্ধানীর সদস্যদের কাছে ছুটে এসে বললেন, ‘বাবার অপারেশন করতে হবে, জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন।’ পেশাদার রক্তদাতাদের অনিরাপদ রক্ত গ্রহণের ভয়ে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেরাই রক্ত দেবেন। এর ফলে ২ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের অধ্যাপক ডা. আবদুল কাদেরের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রথম ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি’র আয়োজন করে সন্ধানী। সন্ধানীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইদ্রিস আলী মঞ্জু সবার আগে রক্তদান করেন। মেয়েদের রক্তদান কার্যক্রমে যুক্ত করতে প্রথম রক্ত দিলেন তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী হোসনে আরা লাকী। সবার সহযোগিতায় ঐতিহাসিক ওই দিনে ২৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিলো। এই মহতী উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপদানের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে ঐ দিনটিকেই ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে প্রতিবছর সরকারিভাবে পালন করার ঘোষণা দেয় সরকার।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রক্তদানঃ
দেশের প্রবীণ রক্ত পরিসঞ্চলনবিদ প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালের ১০ জুন জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর নূরুল ইসলাম নিজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে রেডক্রস (পরে রেড ক্রিসেন্ট) ১৯৭৮ সালে সন্ধানী স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিকভাবে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীকালে এদের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে অরকা (১৯৮২), বাঁধন (১৯৯৯), কোয়ান্টাম (১৯৯৬), লায়ন্স (২০০০) সালে স্বেচ্ছায় রক্ত দান কার্যক্রম শুরু করে।

বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার
উল্লেখ্য, ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৪ জুন দিবসটি পালনের আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। ১৮৬৮ সালের এদিনে জন্ম নিয়েছিলেন অস্ট্রীয় জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী রক্তের গ্রুপ ‘এ, বি, ও, এবি’ আবিষ্কার করেছিলেন।
স্বেচ্ছায় রক্তদাতাগণ রক্তবন্ধু সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন roktobondhu.com
ফেসবুক গ্রুপঃ facebook.com/groups/roktobondhu
অন্যান্য পোস্ট সমূহ
Platelet দানের বিশ্ব রেকর্ড
Author: রক্তবন্ধু | 02 May 2025
Most Donated Blood-Apheresis" বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হোল্ডার, বিশ্বের সর্বোচ্চ প্লাটিলেট দাতা জিম কুলম্যান। জেমস জিম কুলম্যান (James Jim Kuhlmann) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাফেলো...
কুকুরের জন্য রক্ত চেয়ে পোস্ট, পাওয়া গেল রক্তদাতাও
Author: রক্তবন্ধু | 29 Jun 2024
গুরুতর অসুস্থ একটি কুকুরের জন্য রক্ত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ভারতীয় ধনকুবের রতন টাটা। অসুস্থ মানুষের জন্য রক্ত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা...
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ কর্মপরিকল্পনা
Author: রক্তবন্ধু | 10 Mar 2024
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে যে সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখতে হবে ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ কর্মপরিকল্পনার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে এ রোগে আক্রান্ত...
Facebook Comments