স্বেচ্ছায় দান করা রক্ত বিক্রি হলো ছয় হাজার টাকায়

শেয়ার করুন:

স্বেচ্ছায় দান করা রক্ত বিক্রি হলো ৬০০০ টাকায়! অবশেষে হাসপাতালের জড়িমানা

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিউ পদ্মা ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবীর দেওয়া রক্ত রোগীর কাছে ছয় হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর স্বেচ্ছায় রক্তদাতাগণ পদ্মা ক্লিনিক বয়কটের প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন, সাথে সাধারণ মানুষও যোগদান করেন।
শুক্রবার সকাল থেকে হাসপাতালের সামনে স্থানীয় বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ওই হাসপাতালের সামনে শতাধিক লোকজন রক্ত বিক্রির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা এ ঘটনার বিচার দাবি করে হাসপাতালের সামনের সড়কে মিছিল করেন। তবে প্রথমে রক্ত বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। রক্তদাতা বিপ্লবকে ওই হাসপাতালের মালিক মো. শাহাবুদ্দিন ফোন করে জানান, একজন দরিদ্র রোগীর জন্য এক ব্যাগ বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন। পরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ঐ হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করেন তিনি, এর বিনিময়ে তিনি কোনো অর্থ নেননি। রক্ত বিক্রির বিষয়ে ওই নারীর স্বামীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রক্তদাতা সংগঠনের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রক্তদাতা সংগঠন সিএইচবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ প্রধান বলেন, গাজীপুর ও আশপাশের ৩০টি রক্তদাতা সংগঠনের লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে হাসপাতালের সামনে এসেছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

বৃহস্পতিবার রাতেই বিক্ষুব্ধ স্বেচ্ছাসেবীদের মানববন্ধন

জানা যায়, গত বুধবার ওই হাসপাতালে পিয়া নামের এক নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। এ জন্য ওই নারীর বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরে ঐ নারীর স্বামী রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক ব্যাগ রক্তের জন্য প্রথমে সাত হাজার টাকা দাবি করে পরে তা ছয় হাজার টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূলত বিপ্লব চন্দ্র সরকার নামের এক স্বেচ্ছাসেবী বিনামূল্যে ঐ রক্ত দান করেছিলেন।

আন্দোলন প্রতিবাদে বিজয়ী স্বেচ্ছাসেবীদের একাংশ

পরে স্বেচ্ছাসেবীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শ্রীপুর উপজেলার ইউ.এন.ও তরিকুল ইসলাম মহোদয়ের হস্তক্ষেপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্বেচ্ছাসেবীদের বৈঠক হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবীদের ৭ দফা দাবী মেনে নেয় এবং রক্তের বাবদ নেয়া ছয়হাজার টাকা ফেরত দিতে ও রোগীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনে রাজী হয়। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০,০০০টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


শেয়ার করুন:

Facebook Comments